আমরা অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়ি যখন ফোনে কথা বলতে বলতে হুট করে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়। আশেপাশে হয়তো রিচার্জের দোকান নেই বা ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইন রিচার্জও করা যাচ্ছে না। ঠিক এই বিপদের মুহূর্তেই আমাদের দরকার হয় ‘ইমারজেন্সি ব্যালেন্স’ বা লোন।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সব মোবাইল অপারেটর— জিপি, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল এবং টেলিটক তাদের গ্রাহকদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। আজকের ব্লগে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কীভাবে এক নিমিষেই কোড ডায়াল করে এই লোন নিতে পারেন।
Contents
- 1 ১. গ্রামীণফোন (GP) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
- 2 ২. বাংলালিংক (Banglalink) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
- 3 ৩. রবি (Robi) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
- 4 ৪. এয়ারটেল (Airtel) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
- 5 ৫. টেলিটক (Teletalk) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
- 6 একনজরে সব সিমের লোন কোড (টেবিল)
- 7 কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ (বাক্তিগত মতামত)
- 8 সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions)
১. গ্রামীণফোন (GP) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
গ্রামীণফোন বা জিপি গ্রাহকদের জন্য লোন নেওয়া এখন খুব সহজ। আপনার ফোনে যদি ৫ টাকার কম ব্যালেন্স থাকে, তবেই আপনি এই লোন পাবেন।
- লোন কোড: ডায়াল করুন
*121*1*3#/*1010# - কত টাকা পাবেন? আপনার সিম ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে জিপি ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত লোন দিয়ে থাকে।
- মনে রাখবেন: লোন নেওয়ার পর আপনার কত টাকা লোন আছে তা দেখতে ডায়াল করুন
*566*28#। পরবর্তী রিচার্জে এই টাকা কেটে নেওয়া হবে।
২. বাংলালিংক (Banglalink) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
বাংলালিংক তাদের গ্রাহকদের বিপদে সবসময় পাশে থাকে। আপনি যদি লোন নিতে চান, তবে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
- লোন কোড: ডায়াল করুন
*874*10# / *121*5# - এসএমএস পদ্ধতি: আপনি চাইলে মেসেজ অপশনে গিয়ে START লিখে 874 নাম্বারে পাঠিয়েও লোন নিতে পারেন।
- বিস্তারিত: বাংলালিংকে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকার ওপর লোন পাওয়া যায়। আপনার বকেয়া লোন জানতে ডায়াল করুন
*124#অথবা*121*1#।
৩. রবি (Robi) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
রবির ঝটপট ব্যালেন্স সুবিধাটি অনেক জনপ্রিয়। বিশেষ করে যারা হঠাৎ কল ড্রপ বা ব্যালেন্স সংকটে পড়েন তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ।
- লোন কোড: ডায়াল করুন
*123*007#অথবা সরাসরি*8# - লোন চেক: আপনি কত টাকা লোন নিয়েছেন তা দেখতে ডায়াল করুন
*1#বা*222#। - টিপস: রবিতে আপনি ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে বড় অংকের লোন পেতে পারেন, যা জরুরি কল বা ইন্টারনেট প্যাক কেনার জন্য যথেষ্ট।
৪. এয়ারটেল (Airtel) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
এয়ারটেল গ্রাহকদের জন্য ব্যালেন্স লোন নেওয়া রবির মতোই সহজ, কারণ এই দুটি কোম্পানি এখন একই নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত।
- লোন কোড: ডায়াল করুন
*141#অথবা*8# - লোন স্ট্যাটাস: আপনার কত টাকা লোন বাকি আছে তা জানতে ডায়াল করুন
*778#বা*1#। - বিশেষত্ব: এয়ারটেলে ব্যালেন্স লোন ছাড়াও অনেক সময় ইমারজেন্সি ইন্টারনেট লোনও পাওয়া যায়।
৫. টেলিটক (Teletalk) ইমারজেন্সি ব্যালেন্স
সরকারি সিম ব্যবহারকারীরাও কিন্তু বিপদে লোন নিতে পারেন। তবে টেলিটকের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে (যেমন সিমটি অন্তত ৬ মাস পুরনো হতে হবে)।
- লোন কোড: ডায়াল করুন
*1122# - এসএমএস পদ্ধতি: মেসেজ অপশনে গিয়ে বড় হাতের অক্ষরে LOAN লিখে পাঠিয়ে দিন 1122 নম্বরে।
- লোন চেক: আপনার ব্যালেন্স ও লোন জানতে ডায়াল করুন
*152#।
একনজরে সব সিমের লোন কোড (টেবিল)
দ্রুত খুঁজে পেতে নিচের টেবিলটি সেভ করে রাখতে পারেন:
| অপারেটরের নাম | ইমারজেন্সি কোড | লোন চেক কোড |
| গ্রামীণফোন (GP) | | *566*28# |
| বাংলালিংক (BL) | *121*5# | *124# |
| রবি (Robi) | | *1# |
| এয়ারটেল (Airtel) | *141# অথবা *8# | *1# |
| টেলিটক (Teletalk) | *1122# | *152# |
কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ (বাক্তিগত মতামত)
ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
- সার্ভিস চার্জ: মনে রাখবেন, প্রতিটি লোন নেওয়ার জন্য অপারেটররা সাধারণত ১ থেকে ২ টাকা (ভ্যাটসহ) বাড়তি চার্জ কাটে। তাই খুব জরুরি না হলে লোন না নেওয়াই ভালো।
- পরিশোধের নিয়ম: আপনি যখন পরবর্তী সময়ে মোবাইল রিচার্জ করবেন, তখন সবার আগে লোনের টাকা কেটে নেওয়া হবে। লোন পরিশোধ না করা পর্যন্ত আপনি পুনরায় লোন নিতে পারবেন না।
- সিমের বয়স: আপনি যদি একদম নতুন সিম কেনেন, তবে সাধারণত প্রথম ৩ মাস লোন সুবিধা পাওয়া যায় না।
আশা করি এই ছোট তথ্যগুলো আপনার বিপদের সময় অনেক কাজে আসবে। আমাদের ফোনের ব্যালেন্স কখন শেষ হয় তার কোনো ঠিক নেই, তাই এই কোডগুলো কোথাও লিখে রাখতে পারেন বা এই ব্লগটি বুকমার্ক করে রাখতে পারেন।
ব্লগটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যেন তারাও বিপদের সময় লোন নিতে পারে। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন!
সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions)
১. প্রশ্ন: গ্রামীণফোনে লোন পাওয়ার প্রধান শর্ত কী? উত্তর: গ্রামীণফোনে লোন পেতে হলে আপনার বর্তমান মেইন ব্যালেন্স অবশ্যই ৫ টাকার নিচে হতে হবে। আপনার সিম ব্যবহারের ইতিহাস অনুযায়ী জিপি আপনাকে ১০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত লোন দিতে পারে।
২. প্রশ্ন: রিচার্জ করার পর লোন পরিশোধের নিয়ম কী? উত্তর: আপনি যখনই পরবর্তী সময়ে রিচার্জ করবেন, অপারেটর স্বয়ংক্রিয়াভাবে আপনার বকেয়া লোন এবং প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ কেটে নেবে। এরপর বাকি টাকা আপনার মেইন ব্যালেন্সে যুক্ত হবে।
৩. প্রশ্ন: সব সিমে লোন নেওয়ার জন্য কি সার্ভিস চার্জ কাটে? উত্তর: হ্যাঁ, প্রায় প্রতিটি মোবাইল অপারেটর ইমারজেন্সি ব্যালেন্স প্রদানের জন্য সামান্য পরিমাণ সার্ভিস চার্জ বা ভ্যাট (সাধারণত ১-২ টাকা) কেটে থাকে।
৪. প্রশ্ন: আমি কি একসাথে একাধিকবার লোন নিতে পারবো? উত্তর: না, একবার লোন নেওয়ার পর সেটি রিচার্জের মাধ্যমে পরিশোধ না করা পর্যন্ত আপনি পুনরায় লোন নিতে পারবেন না।
৫. প্রশ্ন: নতুন সিম কিনলে কি সাথে সাথেই লোন পাওয়া যায়? উত্তর: সাধারণত নতুন সিমে লোন সুবিধা পাওয়া যায় না। অপারেটর ভেদে সিমের বয়স অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস হতে হয় এবং নিয়মিত ব্যবহারের একটি রেকর্ড থাকতে হয়।
৬. প্রশ্ন: রবির লোন ব্যালেন্স চেক করার কোড কোনটি? উত্তর: রবিতে আপনি কত টাকা লোন নিয়েছেন বা কত টাকা বকেয়া আছে তা জানতে *1# অথবা *222# ডায়াল করতে পারেন।
আরো পড়ুন : এয়ারটেল মিনিট চেক করার কোড ২০২৬
